![]() |
| Photo by Scott Graham on Unsplash |
বয়স বৃদ্ধি এবং প্রতিকূলতার মুখে পড়ে আমি শিখতে থাকার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছি। যতদিন শিখতে থাকবে ততদিন অভিজ্ঞতা বাড়বে। উদাহরন স্বরূপ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বা সফটওয়্যার গুলির দিকে দেখুন। এগুলো যতদিন নিয়মিত আপডেট হয়, ততদিন সচল থাকে। আপডেট বন্ধ হলেই এগুলি ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তেমনি শিখতে থাকা বন্ধ করে দিলেই মানুষ বুড়ো হয়ে যায়।
একটা নিদিষ্ট বয়স পেরোনোর পরে অধিকাংশ মানুষের মনেই একধরনের কমফোর্ট জোনের সৃষ্টি হতে থাকে। তার ফলে তাদের তখন মনে হয় যে আমরা এতদিন যা শিখে এসেছি সেটাই কারণ আমি সেই শেখার ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে নিদিষ্ট পরিমাণে অর্থ উপার্জন পারছি। সুতরাং আমি এতেই নিরাপদ এবং সন্তুষ্ট। এই আত্নতুষ্টির ফলে তাদের শেখার ইচ্ছা হারিয়ে যেতে থাকে।
বর্তমানে এই ক্রমপরিবর্তিত বিশ্বে প্রতিদিন মানুষের চাহিদার বৃদ্ধি এবং পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষ আরো আধুনিক প্রযুক্তিকে নিজেদের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে চাইছে। কৃষকদের দেখুন তারা আজ ফসল উৎপাদনের জন্যে ড্রোন প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে। তারা বুঝতে পারছে যে এই প্রযুক্তি ব্যাবহার করে জমিতে সার অথবা কীটনাশক প্রয়োগ করলে আরো বেশী ভালো ফলন সম্ভব। আর তাই তারা এই ড্রোন প্রযুক্তি সম্পর্কে শিখছে।
এবার স্কুল কলেজের দিকে দেখা যাক। নতুন প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা চাইছে যে তাদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ব্লাক বোর্ড এবং চক-ডাস্টারের ব্যাবহারের পরিবর্তে ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড, প্রেজেন্টেশন এবং কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাবহার করলে তাদের পড়া বুঝতে বেশি সুবিধা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে রোবট শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছে এবং পড়ুয়ারাও রোবট শিক্ষকের সঙ্গে মতবিনিময় করার জন্য আগ্রহী হয়ে আছে।
নতুন প্রজন্মদের বিভিন্ন বিষয়ে শেখার আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু শেখার পদ্ধতি বদলে গেছে। নতুন প্রজন্মদের শেখার নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষক, অধ্যাপকদের নিয়মিত আপডেট হতে হবে অর্থাৎ শিখতে হবে। তার সুফল হিসাবে শিক্ষক এবং ছাত্রদের মধ্যবর্তী মানসিক বন্ধন সুদৃঢ় থাকবে।
আজকের ক্রমপরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রতিটি পেশার সঙ্গেই শেখার বিষয়টি জড়িত হয়ে গেছে। যেকোনো পেশার মানুষের দক্ষতা এবং শেখার ইচ্ছা তাকে তার কর্মজীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

Comments
Post a Comment